হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী "শাহী জামে মসজিদ" ইসলামি ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের নতুন নিযুক্ত প্রতিনিধি "হুজ্জাতুল ইসলাম মওলানা আব্দুল হাকিম ইলাহি" এদিন মসজিদের ইমাম আহমেদ বুখারীর জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এই ঘটনাকে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা
দিল্লির শাহী জামে মসজিদ, যা মুঘল সম্রাট শাহজাহানের স্থাপত্যকীর্তি, শুধু ধর্মীয় স্থানই নয়, ঐক্যেরও প্রতীক। মুঘল আমলে এখানে ঈদের নামাজে অংশ নিতেন সকল শ্রেণি-ধর্মের মানুষ। সাইয়েদ ওয়াজির হাসান দেহলভির বর্ণনায় উঠে এসেছে, কিভাবে ঈদের দিনে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ছবি ফুটে উঠত এ শহরে। বর্তমান ঘটনাটি সেই ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা বহন করে।
ইরানের প্রতিনিধির ভূমিকা ও বার্তা
মওলানা আব্দুল হাকিম ইলাহি তার প্রথম ঈদেই দিল্লির মুসল্লিদের কাছে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, "ঈদের শিক্ষা হলো ভেদাভেদ ভুলে মানবতার জয়গান। শিয়া-সুন্নি, জাতি-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের একই কাতারে দাঁড়াতে হবে"। তার এই আহ্বান শাহী জামে মসজিদের প্রাঙ্গণে ধ্বনিত হয়, যা মুসলিম বিশ্বের মধ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংহতির ইঙ্গিত দেয়।
ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ঈদের তাৎপর্য
ঈদুল ফিতর কেবল আনন্দের উৎসব নয়, এটি সাম্য ও সম্প্রীতিরও বার্তাবাহক। ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, ঈদের নামাজে ধনী-দরিদ্র, শাসক-প্রজা একই সারিতে দাঁড়ায়, যা সামাজিক সমতার চিত্র তুলে ধরে। এদিনের ঘটনায় তা আরও প্রমাণিত হয়, যখন ইরানের প্রতিনিধির নেতৃত্বে ভারতীয় মুসল্লিরা একত্রিত হন।
ঐতিহাসিক মুঘল ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন
মুঘল যুগে ঈদ উদযাপন হতো রাজকীয় আড়ম্বরে। বাদশাহ নিজে ঈদগাহে নামাজ আদায় করতেন, এবং পরবর্তীতে দিওয়ান-ই-খাসে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সাথে আলোচনায় বসতেন। শাহী জামে মসজিদে ইরানের প্রতিনিধির উপস্থিতি সেই বহুস্তরীয় সংস্কৃতিরই আধুনিক রূপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা ইরান-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। ইসলামি বিশ্বের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে ধর্মীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ই এখানে মূল বিষয়। অন্যদিকে, স্থানীয় মুসল্লিরা এদিনকে "ঐতিহাসিক মুহূর্ত" হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা দিল্লির বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
শেষ কথা
ঈদের এই দিনে দিল্লি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবই পালন করেনি, বরং বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে কিভাবে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। মুঘল আমলের সেই "দিল্লি কি আখেরি দিদার"-এর বর্ণনা যেমন আজও প্রাসঙ্গিক, তেমনি বর্তমান ঘটনাটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত রেখে গেল।
আপনার কমেন্ট